প্রতিবেদন:
ব্রিজিত ও এমানুয়েল মাখোঁ—ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সম্পর্ককে কেউ বলেন সাহসিকতার প্রতীক, আবার কারও চোখে তা অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, নানা সামাজিক বাধা, গুজব ও সমালোচনার মুখেও তাঁদের সম্পর্ক বাস্তব এবং অটুট থেকেছে বছরের পর বছর।
ফ্রান্সের বহু প্রেসিডেন্ট পরকীয়ায় জড়ালেও মাখোঁ কিশোর বয়স থেকেই ভালোবেসেছেন ব্রিজিতকে এবং সেই ভালোবাসায় থেকেছেন অনড় ও বিশ্বস্ত। এই 'অসাধারণ প্রেমের কাহিনি' উঠে এসেছে ফরাসি সাংবাদিক সিলভি বোমেলের নতুন বই Il venait d’avoir dix-sept ans–এ (বাংলা অনুবাদ: ‘তাঁর বয়স তখন সবে সতেরো’)।
১৯৯৪ সালের বসন্তে, আমিয়েঁ শহরের একটি প্রাইভেট স্কুলে মাখোঁর বয়স তখন ১৬, ব্রিজিতের ৪০। তিনি ছিলেন ফরাসি ভাষার শিক্ষিকা এবং বিবাহিত। নাট্যদলে কাজ করতে গিয়ে শুরু হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী সম্পর্ক, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে টিকে থাকে।
স্কুলে ও সমাজে চিঠির মাধ্যমে অপমান, পরিবার থেকে চাপ এবং আইনগত ঝুঁকি—সবই তাঁদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মাখোঁর দৃঢ়তা ছিল অটল। তিনি চেয়েছিলেন ব্রিজিতকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে, এবং অবশেষে ২০০৭ সালে তা বাস্তব রূপ পায়।
বোমেল এই প্রেমকে কেবল ভালোবাসার গল্প হিসেবে দেখেন না, বরং মাখোঁর রাজনৈতিক চরিত্র গঠনে এর প্রভাবকেও তুলে ধরেন। কঠিন সময়ে অটল থাকার যে মানসিকতা, তা তাঁর নেতৃত্বেও প্রতিফলিত হয় বলে লেখিকার বিশ্বাস।
তবে এই সম্পর্ক আজও বিতর্কের বাইরে নয়। বয়সের পার্থক্য, সামাজিক রীতি ভঙ্গ এবং নারীর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে এখনো ব্রিজিতকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সংবাদপত্রের মন্তব্য, এলিসি প্রাসাদের চিঠি, এমনকি গুজব—সবই তাঁদের নিয়ে ঘুরে ফিরে আসে। কেউ বলেন, মাখোঁ সমকামী; কেউ বলেন, ব্রিজিত তরুণদের প্রতি আসক্ত।
এমনকি ব্রিজিতের প্রাক্তন স্বামী আন্দ্রে-লুই ওজিয়ের সম্পর্কে খোঁজ করেও লেখিকা কোনো তথ্য খুঁজে পাননি। তাঁর ধারণা, হয়তো ইতিহাস থেকে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।
সবকিছুর পরেও, এই দম্পতি প্রমাণ করেছেন—প্রকৃত ভালোবাসা বয়স, সামাজিক রীতি কিংবা কুসংস্কার মানে না। বরং তা সময়ের পরীক্ষায় ধৈর্য, সাহস ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে বেঁচে থাকে।
বোমেলের কথায়, “আপনি মাখোঁকে ভালোবাসুন বা না বাসুন, তাঁর এই একাগ্রতা প্রশংসনীয়। আর ব্রিজিত? তিনি ছিলেন সেই নারী, যিনি সব হারানোর ঝুঁকি নিয়েও ভালোবাসাকে বেছে নিয়েছিলেন।”
Post a Comment